টানা সহিংস বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে একদিনে ভোট গ্রহণের পরিবর্তে নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গুলাম মোস্তফা মুঘল জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে পুঞ্চ বিভাগে নির্ধারিত ২৭ জুলাইয়ের ভোট পিছিয়ে ১০ আগস্ট করা হয়েছে। মুজাফফরাবাদ বিভাগ এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২ আগস্ট। তবে মিরপুর বিভাগে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে।
গত জুনের শুরু থেকে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে টানা বিক্ষোভ, অবরোধ ও সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আগত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেবল পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বসবাসকারীরাই আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন; সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) জুন মাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সংগঠনটির প্রতি জনসমর্থন এখনো বিদ্যমান বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
মুজাফফরাবাদের ৬০ বছর বয়সী এক গাড়িচালক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, তিনি কখনো আন্দোলনে অংশ নেননি। তবে আন্দোলনকারীরা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছেন বলেই তাদের প্রতি তাঁর সহানুভূতি রয়েছে।
তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত, কিন্তু যাকে ভোট দিতে চাই, সে-ই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। বর্তমানে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের কাউকেই আমি যোগ্য মনে করি না। তাই ভোট দেব না।"
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে, পুঞ্চ ছাড়া বাকি এলাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। মুজাফফরাবাদের উপকমিশনার মুনির কুরেশি বলেন, শহরের বাজার, যানবাহন চলাচল এবং নির্বাচনী প্রচারণা স্বাভাবিকভাবে চলছে।
তিনি বলেন, "মানুষ ভোট দেবেন কি দেবেন না, সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।"
মুজাফফরাবাদে পাঁচটি নির্বাচনী আসনের জন্য ৮৯০টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভোটের আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চল কাশ্মীর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই দুই দেশের দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে উভয় দেশই কাশ্মীরের পৃথক অংশ শাসন করলেও পুরো অঞ্চলটির ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে। চার মিলিয়নেরও বেশি মানুষের আবাসস্থল পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নিজস্ব প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টসহ একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কের কারণে এবারের ভোট শুধু সরকার গঠন নয়, বরং অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনআস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:









