তীব্র তাপপ্রবাহ ও ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের মুখে পাকিস্তান আবারও ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু নদীর পানি আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান পানি সংকটের জন্য ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের চেয়ে বহু দশকের অব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ, দুর্বল জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাদেশিক বিরোধই বেশি দায়ী।
পাকিস্তান সম্প্রতি সিন্ধু পানি চুক্তি (ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি) ইস্যুতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে দাবি করা হয়, ভারত চুক্তি স্থগিত রেখে পাকিস্তানের পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নেতা বা প্রভাবশালী সংস্থার অংশগ্রহণ ছিল না। এদিকে, চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী বিশ্বব্যাংকও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ভারত ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার পর সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার বলেছেন, "রক্ত ও পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।"
পাকিস্তানের কয়েকজন শীর্ষ নেতা সম্মেলনে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিকও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী রাভি, শতদ্রু (সতলুজ) ও বেয়াস নদীর পানি ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার ভারতের, আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানির ওপর প্রধান অধিকার পাকিস্তানের। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে 'রান-অফ-দ্য-রিভার' জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের অনুমতি ভারতের রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পানি সংকটের মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণ না করা, পানি অপচয়, আধুনিক সেচব্যবস্থার অভাব এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতা। এসব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছে ইসলামাবাদ।
ভারতীয় অবস্থান অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি পুনরায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আরও পড়ুন:









