ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ 

ইন্দো-প্যাসিফিক স্থিতিশীলতায় ভারতের ওপর জোর দিচ্ছে জাপান

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০২, ৭ জুলাই ২০২৬

শেয়ার

ইন্দো-প্যাসিফিক স্থিতিশীলতায় ভারতের ওপর জোর দিচ্ছে জাপান

জাপান–ভারত অংশীদারিত্ব এখন অবকাঠামো সহযোগিতা ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তায় বিস্তৃত। জাপানের ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP) কৌশল ধীরে ধীরে একটি কৌশলগত ধারণা থেকে আঞ্চলিক জনকল্যাণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কার্যকর কাঠামোতে পরিণত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে জাপান এখন ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখছে।

জাপান–ভারত সম্পর্কের এই পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০০৬ সালে, যখন তৎকালীন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ‘জাপান–ভারত কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব’-এর ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রায় দুই দশক পর, ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাপান সফরে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পায়।

বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু উন্নয়ন সহায়তা ও অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সম্ভাব্য ভারত সফর এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঝুঁকি বেড়েছে।

ভারতের বৃহৎ শিল্পভিত্তি, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান এবং বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনা জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সঙ্গে মিলিত হয়ে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এর মাধ্যমে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে কৌশলগত সংযোগও আরও সুদৃঢ় হবে।

২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা জাপানের নতুন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপান ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি কোয়াড ও আসিয়ানভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

তবে এই অংশীদারিত্বের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্ক, চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক অবস্থানকে জাপানের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় জাপান–ভারত সম্পর্ককে শুধু কৌশলগত সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। 

novelonlite28
umchltd