মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই ভারত সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি জানান, “ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে” তিনি ভারত সফরে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
গত এক বছরে শুল্ক আরোপ, কাশ্মীর ইস্যু এবং সাম্প্রতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, এই বৈঠককে তার অবসানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত তিন ভারতীয় নাবিকের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ওই হামলায় একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, যা মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী ইরানের বন্দর অবরোধ লঙ্ঘন করছিল। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি মোদি বিশেষভাবে ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন।
দুই নেতা চলমান ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা নিয়েও কথা বলেন। যদিও জোরপূর্বক শ্রম দমনে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা আলোচনায় কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মোদিকে “কঠিন দরকষাকষিকারী” বলে উল্লেখ করেন এবং ভারত সফরের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “যদি কেউ ওই মানুষটিকে (মোদি) আক্রমণ করে, আমরা পাশে থাকব। ভবিষ্যতে অন্য কোনো নেতা এলে পরিস্থিতি কী হবে, তা আমি বলতে পারি না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিককে দু’বার তলব করে। ভারতের বিরোধী দলগুলোও মোদির সমালোচনা করে দাবি জানায় যে, তিনি যেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেন।
জি-৭ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মোদি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “বিশ্বে সম্পদের অভাব নেই, অভাব রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাসের। ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব এই বিশ্বাসের ওপরই নির্ভর করবে।” ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পরোক্ষ বার্তা ছিল।
ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বাণিজ্য ক্ষেত্রেও দুই দেশের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির “চূড়ান্ত বিষয়গুলো” নিয়ে বৈঠকে বসবেন। গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করলেও পরবর্তীতে তা কমানো হয়। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুল্কহার ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে কাশ্মীর ইস্যু, পাকিস্তানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, অভিবাসন নীতি এবং ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১বি ভিসা সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো এখনও দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
আরও পড়ুন:








