ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ও তেল আবিব—দুই পক্ষের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে ভারত চাইলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের সুযোগ পেতে পারে। তবে দিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক বিরোধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
ভারত গত এক দশকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্র ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে ইরানের সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দ্বৈত সম্পর্ক ভারতের জন্য একদিকে সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। ভারতের নীতিনির্ধারকদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে—তারা কি কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, নাকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
নয়াদিল্লির জিন্দাল সেন্টার ফর ইসরায়েল স্টাডিজের পরিচালক খিনভরাজ জাঙ্গিদ এবং নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি গবেষক নিকোলাস ব্লারেল মনে করেন, ভারত উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সক্ষমতা রাখলেও সরাসরি মধ্যস্থতায় নামার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের মতে, সফল মধ্যস্থতার জন্য শুধু দুই পক্ষের আস্থা অর্জনই নয়, আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর সমর্থনও প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভারত নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। সেই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করলে দিল্লির আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে কোনো পক্ষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা কূটনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে ভারতকে অত্যন্ত সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক রুট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত ভারত সরাসরি মধ্যস্থতার ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা প্রশমনে নেপথ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার পথ দিল্লির জন্য খোলা রয়েছে।
আরও পড়ুন:









