ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ 

ব্যালটের আড়ালে ‘নিয়োগ’: গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৬, ৬ জুন ২০২৬

শেয়ার

ব্যালটের আড়ালে ‘নিয়োগ’: গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

গিলগিট-বালতিস্তানের আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে, ফলে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবর্তে কার্যত ‘নিয়োগের’ সংস্কৃতি বহাল রয়েছে।

ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, গিলগিট অঞ্চলে বহিরাগত শাসনের ঐতিহ্য বহু পুরোনো। উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ গবেষক জি. ডব্লিউ. লেইটনার তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় লোককাহিনিতে জনগণের স্বীকৃতির মাধ্যমে শাসক নির্বাচনের ধারণা বিদ্যমান ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরের মহারাজা এবং পরে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি প্রশাসনের অধীনে অঞ্চলটির শাসনব্যবস্থা ক্রমশ কেন্দ্রনির্ভর হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচনেও সেই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অতীতের ২০০৯, ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার, নিখোঁজের অভিযোগ এবং ভোট কারচুপির বিতর্ক ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর চাপ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বাবা জান এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রার্থী ফিদা মোহাম্মদ নাশাদ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দলটির আঞ্চলিক সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী খালিদ খুরশিদকে অঞ্চল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককেই গিলগিট-বালতিস্তানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আরেকটি বিষয়। একদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।

গিলগিট-বালতিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে সব রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা, ফেডারেল মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকেও নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত রাখা হবে। তবে ওই ঘোষণার পরদিনই পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)-এর নেতা খাজা সাদ রফিক, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, আসিফা ভুট্টো এবং ক্যাপ্টেন (অব.) সফদার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিলগিট-বালতিস্তান সফর করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচন জাতীয় সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব এখানে বেশি দৃশ্যমান হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমন ধারণা প্রচলিত যে, ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, শেষ পর্যন্ত গিলগিট-বালতিস্তানেও সেই দলই সরকার গঠন করে।

এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

novelonlite28
umchltd