ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ 

চীনে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় কার্যক্রমের তথ্য দিলে নগদ পুরস্কার!

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩০, ২৫ জুন ২০২৬

শেয়ার

চীনে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় কার্যক্রমের তথ্য দিলে নগদ পুরস্কার!

চীনের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে "অবৈধ ধর্মীয় কার্যক্রম" সম্পর্কে তথ্য সরবরাহকারীদের নগদ পুরস্কার দেওয়ার নীতি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়ক ব্যুরোগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন একাধিক নির্দেশনা জারি বা নবায়ন করেছে, যার আওতায় ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীদের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন, ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা, অননুমোদিতভাবে অনুদান গ্রহণ, অনুমতি ছাড়া উপাসনালয় স্থাপন কিংবা বিদেশি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ, সম্মেলন ও তীর্থযাত্রার তথ্য গোপনে জানালে পুরস্কার পাওয়া যাবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পুরস্কার ব্যবস্থা চারটি স্তরে বিভক্ত। সাধারণ তথ্যের জন্য ১০০ থেকে ১,০০০ ইউয়ান, অবৈধ ধর্মীয় গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তার জন্য ১,০০০ থেকে ৩,০০০ ইউয়ান, বিদেশি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যের জন্য ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ইউয়ান এবং বিদেশভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে পারলে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হয়।

চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো বৈধ ধর্মীয় কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখা, অবৈধ কর্মকাণ্ড দমন, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিদেশি প্রভাব প্রতিরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

এদিকে হেনান প্রদেশের ধর্মীয় বিষয়ক কমিশন একটি খসড়া মতামতে সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। নিবন্ধনবিহীন উপাসনালয় পরিচালনা আইনত বৈধ হবে না এবং গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিলও হতে পারে।

তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ তাদের মধ্যে নিরাপত্তার বদলে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তাদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়কার পারস্পরিক অভিযোগ ও নজরদারির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে পারে।

হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির চুং চি কলেজের ডিভিনিটি স্কুলের ডিন অধ্যাপক ইং ফুক-সাং মন্তব্য করেছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৃণমূল প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর মতে, পুরস্কারভিত্তিক তথ্যদানের ব্যবস্থা কার্যত “জনগণকে জনগণের ওপর নজরদারিতে উৎসাহিত করছে”।

ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অধিকাংশ বিশ্বাসী শান্তিপূর্ণভাবে উপাসনা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালন করেন। এসব কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত বিবেকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৈধ ধর্মীয় চর্চা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি, যাতে বিশ্বাসীরা আইন মেনে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় জীবন পালন করতে পারেন।
 

novelonlite28
umchltd