ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ 

আগোয়া সুবিধা হারানোর শঙ্কায় ভারতের বাজারে নজর দ.আফ্রিকার

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২১, ২২ জুন ২০২৬

শেয়ার

আগোয়া সুবিধা হারানোর শঙ্কায় ভারতের বাজারে নজর দ.আফ্রিকার

আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া) -এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কৃষি রপ্তানির বিকল্প বাজার হিসেবে ভারতের দিকে ঝুঁকছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ প্রেক্ষাপটে দেশটির কৃষিমন্ত্রী জন স্টিনহুইসেন চলতি মাসে ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরের মূল লক্ষ্য হবে কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা জোরদার করা।

বর্তমানে আগোয়ার আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সাইট্রাস ফল, অ্যাভোকাডো, আঙুর ও কিশমিশ শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করে। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর এ সুবিধা বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর কথিত ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলে দেশটির আগোয়া সুবিধা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগকে ব্যাপকভাবে ভিত্তিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বাজার খুঁজছে প্রিটোরিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তা বাজার হিসেবে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। স্টিনহুইসেনের সফরে সাইট্রাস ফল, অ্যাভোকাডো, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস রপ্তানি ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য তাজা ফলের রপ্তানিও বাড়ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বাজারে ভারতীয় চাল, মসলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিও হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ফল পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘ইন-ট্রানজিট কোল্ড ট্রিটমেন্ট’ পদ্ধতির অনুমোদন ভারত দিয়েছে, যা রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে।

তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় কৃষিপণ্য আমদানির মোট বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকার অংশ এখনও খুবই সীমিত। ফলে নতুন বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ যথেষ্ট রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও গভীর করতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নীতি, অশুল্ক বাধা, কঠোর বায়োসিকিউরিটি বিধান, পরীক্ষণ প্রক্রিয়া এবং লজিস্টিক জটিলতা।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা এককভাবে কোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে না। দেশটি সাউদার্ন আফ্রিকান কাস্টমস ইউনিয়ন-এর সদস্য হওয়ায় বতসোয়ানা, লেসোথো, এসওয়াতিনি ও নামিবিয়ার স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হয়।

ভারত ও স্যাকুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট কার্যকর হলে কৃষি বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। তবে অশুল্ক বাধা ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে আলোচনা এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগোয়া-পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে ভারতসহ বিকল্প বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি খাতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

novelonlite28
umchltd