ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ 

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল জাতিসংঘ

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৫৯, ২৭ জুলাই ২০২৬

শেয়ার

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল জাতিসংঘ

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক শুক্রবার ইসলামাবাদের প্রতি সব বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।

গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি), যা ব্যবসায়ী ও সামাজিক কর্মীদের একটি জোট। শুরুতে খাদ্যপণ্য ও বিদ্যুতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংগঠনটি আন্দোলন শুরু করলেও বর্তমানে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আইনসভা আসন। জেএএসি দাবি করছে, এসব সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে অ-বাসিন্দারা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে; তাই এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

এদিকে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ এবং ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই পুঞ্চ বিভাগে নিরাপত্তা বাহিনী জেএএসি ঘোষিত মুজাফফরাবাদমুখী ‘লং মার্চ’-এর আগে সড়ক অবরোধ সরানোর চেষ্টা করলে তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে সাতজন আন্দোলনকারী ও দুইজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।

তবে পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে বাধা দেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। তাঁর দাবি, “পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষার্থেই ব্যবস্থা নিয়েছে।”

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বর্তমান অস্থিরতা অঞ্চলটির প্রতি পাকিস্তানের “দশকের পর দশক ধরে চলা পদ্ধতিগত শোষণের সরাসরি পরিণতি।”

পরিস্থিতি শান্ত করতে ভলকার টার্ক নিরাপত্তাকেন্দ্রিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

novelonlite28
umchltd