যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবেদনে তিব্বতে চীনের চলমান দমন-পীড়নের চিত্র আবারও উঠে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে তিব্বত সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের মার্কিন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তিব্বতপন্থী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট (আইসিটি) প্রতিবেদন দুটি প্রকাশকে স্বাগত জানালেও তারা বলেছে, মার্কিন প্রশাসন তিব্বত বিষয়ে বিদ্যমান দ্বিদলীয় আইন বাস্তবায়নে এখনও যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।
২০২৬ সালের “অ্যাক্সেস টু টিবেট রিপোর্ট”-এ বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেও তিব্বতে সাংবাদিক, কূটনীতিক ও বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশে চীন কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। ২০১৮ সালের “রিসিপ্রোকাল অ্যাক্সেস টু টিবেট অ্যাক্ট”-এর আওতায় প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিব্বতে ভ্রমণের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় এবং বিদেশিদের ওপর চীনা কর্মকর্তাদের নজরদারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিংস্থ মার্কিন দূতাবাসের কনস্যুলার কর্মকর্তারা তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (টিএআর) সরকারি সফরের অনুমতি পান। সফরকালে তারা স্থানীয় পররাষ্ট্র দপ্তর, পর্যটন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
তবে তিব্বত এখনো চীনের একমাত্র অঞ্চল, যেখানে বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের প্রবেশে বিশেষ অনুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন সাংবাদিকদের প্রায় সবাইকে তিব্বতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং যারা কোনোভাবে সেখানে রিপোর্টিং করেছেন, তারা চীনা কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতি ও নজরদারির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, “২০২৫ রিপোর্ট টু কংগ্রেস অন টিবেট নেগোশিয়েশনস”-এ বলা হয়েছে, তিব্বতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিলেও চীন ও দালাই লামার প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের পর থেকে চীন সরকার ও দালাই লামার প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এছাড়া ২০০২ সালের “তিব্বতান পলিসি অ্যাক্ট” এবং ২০২০ সালের “তিব্বতান পলিসি অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যাক্ট”-এ সংলাপ উৎসাহিত করার যে নির্দেশনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে মার্কিন প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
তিব্বতি নববর্ষ ‘লোসার’ উপলক্ষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে তিব্বতিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিবৃতি নয়, বরং চীন-তিব্বত সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:









