পাকিস্তানের গুজরানওয়ালা শহরে এক খ্রিস্টান পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, জমি পুনর্দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সারওয়ার মাসিহ ও তার পরিবার জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছেন। তাদের দাবি, এক মুসলিম প্রতিবেশী অবৈধভাবে তাদের সম্পত্তি দখল করে সেখানে ধর্মীয় ব্যানার, কোরআনের আয়াত এবং ইসলামের পবিত্র নগরী মদিনার ছবি টাঙিয়ে বিষয়টিকে ধর্মীয় ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান (এইচআরএফপি) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্লাসফেমি আইনকে অপব্যবহার করে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা সারওয়ার মাসিহ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন এবং জমির মালিকানা নিয়ে আগে কখনো কোনো আইনি বিরোধ ছিল না। স্থানীয় ৫০ বছর বয়সী মুসলিম প্রতিবেশী মুহাম্মদ শাহিদও সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারটিকে চেনেন এবং সম্পত্তিটি তাদেরই।
মাসিহ পরিবার আরও জানায়, অভিযুক্তরা হুমকি দিয়েছে—যদি কেউ ধর্মীয় ব্যানার সরানোর চেষ্টা করে, তবে তাকে ইসলাম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হবে এবং এলাকায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। বাড়ির দরজায় এমন সতর্কবার্তাও লেখা হয়েছে যে, দরজা খোলার চেষ্টা করলেই ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।
এইচআরএফপি’র প্রেসিডেন্ট নাভিদ ওয়াল্টার বলেন, “এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও দেখা গেছে, জমি দখলকারীরা ব্লাসফেমির হুমকি দিয়ে খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে ভয় দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগের জেরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ দখলের সময় পুলিশ যথাযথ হস্তক্ষেপ করেনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। ব্লাসফেমি অভিযোগকে ঘিরে ভয়ের পরিবেশের কারণে প্রশাসন প্রায়ই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-এ, ২৯৫-বি ও ২৯৫-সি ধারাসহ ব্লাসফেমি আইন দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এইচআরএফপি অবিলম্বে মাসিহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, অভিযুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ব্লাসফেমি আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর সংস্কার গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:









