ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ 

গ্রিসে চাচাতো-ফুপাতো ভাইবোনের বিয়ে বৈধ করার দাবি ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৩, ৩ মার্চ ২০২৬

শেয়ার

গ্রিসে চাচাতো-ফুপাতো ভাইবোনের বিয়ে বৈধ করার দাবি ঘিরে বিতর্ক

গ্রিসে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের একটি অংশ চাচাতো-ফুপাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে বৈধ করার দাবি জানানোয় দেশটিতে নতুন করে সামাজিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রদায়ের নেতা জাভেদ ইসলাম সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, গ্রিসের বর্তমান আইন তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গ্রিসের আইন কী বলছে?
গ্রিসের সিভিল কোড অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মাত্রার রক্তসম্পর্কের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ। দেশটির আইনপ্রণেতারা মনে করেন, এই বিধান জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কাঠামো এবং পারিবারিক আইনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিষয়টি নিয়ে এখনো গ্রিক সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইন পরিবর্তনের উদ্যোগের ঘোষণা আসেনি।

ইউরোপে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে নিয়ে নীতিমালা একরকম নয়। উদাহরণস্বরূপ, নরওয়ে সম্প্রতি প্রথম চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কিছু ইউরোপীয় দেশে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এ ধরনের বিয়ে বৈধ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অধিকার ও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত
জনস্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিরল জেনেটিক রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। চিকিৎসকরা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সচেতনতা, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্যপরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাজ্যে এ বিষয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ে বংশগত রোগের উচ্চহার নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা একই সঙ্গে জোর দিয়েছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং একে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত। অন্যদিকে ইউরোপীয় সমাজে পরিবার কাঠামো ভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। ফলে অভিবাসনের ফলে ভিন্ন সামাজিক রীতির সংঘাত তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন পরিবর্তনের প্রশ্ন এলে তা অবশ্যই সাংবিধানিক কাঠামো, জনমত, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মানবাধিকার বিবেচনা করেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

সামনে কী?

গ্রিসে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে বহুসাংস্কৃতিক সমাজে আইনি ও সামাজিক মানদণ্ড নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে।

novelonlite28
umchltd