ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ 

দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই চলেছে চীন

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেয়ার

দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই চলেছে চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে সমালোচনা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্গত স্কারবরো শোলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক সনদ অনুমোদন করলেও বেইজিং বাস্তবে তার মূল বিধান লঙ্ঘন করছে।
স্কারবরো শোল—ফিলিপাইনে ‘বাজো দে মাসিনলক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত—২০১২ সালের অচলাবস্থার পর থেকে কার্যত চীনা কোস্ট গার্ডের নিয়মিত উপস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কারণে এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৬ সালের ১২ জুলাই নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালত রায় দেয় যে চীনের তথাকথিত ‘নয়-ড্যাশ লাইন’ দাবির আন্তর্জাতিক আইনে কোনও বৈধ ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে আদালত জানায়, স্কারবরো শোল একাধিক দেশের ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার এলাকা। তবে চীন এই রায়কে “অকার্যকর ও বাতিল” ঘোষণা করে প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে একাধিকবার জলকামান ব্যবহার করে ফিলিপাইনের জাহাজে আঘাত হানার ঘটনাও ঘটে। ২০২৪ সালের ১৭ জুন চীনা নাবিকরা ফিলিপাইনের একটি রসদবাহী নৌযানে উঠে মেরিন সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গত বছরের আগস্টে ফিলিপাইন টহল নৌযানকে ধাওয়া করতে গিয়ে একটি চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ নিজ দেশের কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়, যা পরিস্থিতির অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে নথিভুক্ত সামুদ্রিক ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালেই ৩০টির বেশি ‘অনিরাপদ মুখোমুখি’ ঘটনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
চীনের দাবি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে প্রণীত ‘নয়-ড্যাশ লাইন’ দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় তাদের ঐতিহাসিক অধিকার নির্দেশ করে। 

এদিকে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার অবস্থান ধরে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন এখন একটাই—সামুদ্রিক আইন কি বাস্তবে কার্যকর থাকবে, নাকি শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে?

novelonlite28
umchltd