গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহর ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। চেকপোস্টে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই সেনা নিহতের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সঙ্গে নিয়ে হেবরন সফরে গিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালের ওই হামলায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।
নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রথমেই আমরা এই জায়গাটি ধ্বংস করতে পদক্ষেপ নেব, একে পুরোপুরি বদলে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি, যা আগে কখনো করা হয়নি। শরণার্থী শিবিরগুলোতে আমরা যে সফল ও কঠোর অভিযান চালিয়েছি, সেই মডেল বাস্তবায়ন করব। এসব শিবির কার্যত সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এসব শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ছিল বলে দাবি করে ইসরায়েল।
হেবরনের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যে এলাকা থেকে বেরিয়ে এসেছে, ঠিক সেখানেই আমরা তা করব। বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হবে।’
পশ্চিম তীরের বিভিন্ন সড়কের পাশে অনুমতি ছাড়া নির্মিত বাড়িঘরও সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, এসব স্থাপনা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। নেতানিয়াহু জানান, পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় অভিযান।
তিনি বলেন, ‘এ অভিযান চালানোর জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। কখন অভিযান চালানো হবে, তা আমরা নির্ধারণ করব। তবে অভিযানটি আসছে।’
সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের বীর বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আপনারা ইসরায়েলের জনগণের জন্য একটি আদর্শ, ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্যও একটি আদর্শ।’
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
আরও পড়ুন:









