ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ 

ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৫, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার

ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনের পরই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য হামলা ঘিরে নতুন পরিকল্পনার ছক কষে ফেলেছে দুই মিত্র রাষ্ট্র। এই সামরিক আক্রমণ ‘স্বল্পমেয়াদি হলেও তীব্র’ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সমানতালে এগিয়ে নিচ্ছে তারা। হামলার এই ‘নীলনকশা’ সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঠিক কবে নাগাদ এই হামলা চালানো হতে পারে, তা জানানো হয়নি। সম্ভাব্য এই হামলার প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। মহড়ার অনুশীলনের অংশ হিসেবে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিমান উড়িয়ে হামলার কৌশলও অনুশীলন করা হচ্ছে। তবে এসব প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে, হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত। নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই সামরিক পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। চলতি অক্টোবরেই হামলা চালানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, যদিও সেই সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক প্রস্তুতি জোরদার

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমায় বিমান পরিচালনার মাধ্যমে হামলার কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানে কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের ধারণা, বড় ধরনের আরেক দফা হামলা ইরানের অর্থনীতিকে এমন সংকটে ফেলতে পারে, যার ফলে দেশটি আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে বাধ্য হবে। তবে এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন; হামলার ফলাফল কিংবা ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের পরই কেন হামলার পরিকল্পনা?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

তবে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আবার শুরু করার পরিকল্পনা তৈরি হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর ঘোষণার পরও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়টি ওই আলোচনায় উঠে এসেছিল। তবে বৈঠকের মাধ্যমে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

novelonlite28
umchltd