ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ 

ওআইসির কাশ্মীরবিষয়ক মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ভারতের

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার

ওআইসির কাশ্মীরবিষয়ক মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ভারতের

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাবে ভারতের উল্লেখ প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওআইসিকে ব্যবহার করে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর অভিযোগ তুলেছে দেশটি।

সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। এর আগে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবগুলোতে ভারত সম্পর্কে করা মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট ও অসত্য’ বলে উল্লেখ করে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওআইসির প্রস্তাবগুলোতে ভারতবিরোধী বক্তব্য তারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত ইস্যুতে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ওআইসির নেই বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব অঞ্চলের মর্যাদা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বিরোধ

কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির ধারাবাহিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। ভারত বরাবরই এ অঞ্চলের বিষয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, এসব বক্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। অন্যদিকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে আসছে এবং অঞ্চলটির বিরোধ ও কাশ্মীরিদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করছে।

২০১৯ সালের আগস্টে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার এবং সাবেক রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠনের পর এ বিরোধ আরও তীব্র হয়।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের পর অঞ্চলটির উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটন এবং যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি হয়েছে। এসব উন্নয়নের সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

জম্মু-কাশ্মীরের ওপর ভারতের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিবৃতিতে পাকিস্তান-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের (পিওজেকে) পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেছে ভারত। অঞ্চলটিতে বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা ও দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ তুলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের অভিযোগ, সেখানে নারী ও শিশুসহ বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। তবে বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা, পরিচয় কিংবা সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের অবসানে পাকিস্তানকে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে সরে যেতে হবে এবং আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করতে হবে। এসব অঞ্চলকে ভারত অবৈধ দখলাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে।

অন্যদিকে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। অঞ্চলটির মালিকানা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।

সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

ওআইসির প্রস্তাবে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া নিয়ে করা মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, এসব বিষয় উত্থাপন করে পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।

ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় দুর্বল রেকর্ড, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সুশাসনের ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অভিযোগও তুলেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ওআইসি বারবার ভারতবিরোধী বক্তব্যকে সমর্থন করায় সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি ওআইসির কার্যক্রম ও কাঠামো সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে ওআইসির উচিত নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।

তবে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং ওআইসির ভূমিকা নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটার কোনো ইঙ্গিত এই বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি।

novelonlite28
umchltd