ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ 

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা: মক্কা চুক্তির দায় এড়ানোর প্রশ্ন

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫২, ৪ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা: মক্কা চুক্তির দায় এড়ানোর প্রশ্ন

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ধারাবাহিক বিমান হামলা নতুন করে বেসামরিক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। গত ১ অক্টোবর কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় তিনটি বেসামরিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব হামলায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) আস্তানা লক্ষ্য করা হয়েছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলাটি এমন সময়ে হলো, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি বিমানবাহিনী কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্তে ১০টি স্থানে হামলা চালিয়েছিল। আফগান কর্তৃপক্ষের হিসাবে ওই হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর আগে কুনার ও পাকতিকা প্রদেশেও পাকিস্তানি হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিল জাতিসংঘ।

ইসলামাবাদ বরাবরই এসব হামলাকে পরিকল্পিত, নির্ভুল ও আনুপাতিক বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তানের ভাষ্য, আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত জঙ্গি হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান বেসামরিক প্রাণহানি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সমালোচকদের মতে, টিটিপিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি পাকিস্তানের এই সামরিক তৎপরতার আরও কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক দায় এড়িয়ে চলা এবং দেশটির অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের ব্যর্থতা থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।

এক বছরে ধারাবাহিক বিমান হামলা

গত এক বছরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাবুলসহ কান্দাহার, কুনার, খোস্ত, নানগারহার, পাকতিয়া ও পাকতিকায় হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ হামলার মাধ্যমে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে হেলমান্দও।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাতে ৭৬৪ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। তাদের মধ্যে ৩৭২ জন নিহত এবং ৩৯২ জন আহত হন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইউএনএএমএ জানায়, ২০২৬ সালে সীমান্তপারের সশস্ত্র সংঘাতে আফগানিস্তানে বেসামরিক নিহত ও আহতের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ১ অক্টোবরের হামলা নতুন করে বেসামরিক হতাহতের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

কাবুলের পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা

এই সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৬ মার্চ। ওই দিন কাবুলের ‘ওমিদ ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার’-এ পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়।

ইউএনএএমএ পরে যাচাই করে জানায়, হামলায় অন্তত ২৬৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ওই কেন্দ্রের রোগী।

পাকিস্তান দাবি করেছিল, স্থাপনাটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণসহ সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তদন্ত করে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। সংস্থাটি ঘটনাটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানায়।

এ ঘটনা পাকিস্তানের ‘নির্ভুল ও লক্ষ্যভিত্তিক’ বিমান হামলার দাবিকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

পাকিস্তানের ভেতরেই বাড়ছে জঙ্গি সহিংসতা

পাকিস্তানের ঘোষিত লক্ষ্য যদি হয় দেশের ভেতরে জঙ্গি হামলা কমানো, তাহলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই কৌশলের সাফল্যের পক্ষে খুব বেশি প্রমাণ দিচ্ছে না।

১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে শুক্রবারের নামাজের সময় ওল্ড পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ। ২০২৩ সালের পেশাওয়ার পুলিশ লাইনস হামলার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার কোনো পুলিশ স্থাপনায় এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে হাঙ্গুতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আইইডি হামলায় ছয় পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।

ইসলামাবাদভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পাকিস্তানে সহিংসতাজনিত ঘটনায় ৭৭৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই নিহত হন ৪৭৫ জন, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান মিলে দেশের মোট সহিংসতাজনিত প্রাণহানির প্রায় ৯৬ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল।

ফলে আফগানিস্তানে ধারাবাহিক বিমান হামলা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি সহিংসতা কমাতে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বেসামরিক হতাহতের পাশাপাশি বাড়ছে আফগানদের ক্ষোভ

পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের ফলে শুধু প্রাণহানিই নয়, আফগানিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বেসামরিক বাড়িঘর, ধর্মীয় স্থাপনা এবং একটি বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তপথ বন্ধ ও বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি আফগান শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যাপক হারে ফেরত পাঠিয়ে আসছে। ডুরান্ড লাইন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

আফগানদের একটি বড় অংশ এসব পদক্ষেপকে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের পরিবর্তে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে।

মধ্যস্থতার উদ্যোগও ব্যর্থ

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতার ও তুরস্ক ২০২৫ সালের অক্টোবরে দোহায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবারও ব্যাপক সংঘাত শুরু হয় এবং যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। চীনও কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন ও কাতারের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আফগানিস্তান সফর করেন। তারা তালেবানের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দাপ্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার বিষয়টিও ছিল।

কিন্তু ওই কূটনৈতিক তৎপরতার কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তান আবার আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায়।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

পাকিস্তানের আফগান নীতির পেছনে আঞ্চলিক রাজনীতির হিসাবও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা।

চুক্তিটি দ্রুতই প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে। ৮ সেপ্টেম্বর হুথি বাহিনী সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে। পরদিন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হলে মক্কা চুক্তি কার্যকর হতে পারে এবং চুক্তির শর্তের প্রতি পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপর পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারাও সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, মক্কা বা মদিনার ওপর যেকোনো হুমকি পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’।

তবে কড়া রাজনৈতিক বক্তব্য আর বাস্তবে সেনা মোতায়েন বা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এক বিষয় নয়।

২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের সময়ও সৌদি আরবের চাপ সত্ত্বেও পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ইয়েমেন সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক দশক পর ইসলামাবাদ আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে।

আফগানিস্তানকে লক্ষ্য করে হামলা কি রাজনৈতিক ঢাল?

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

আফগান সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে—তাই তাদের অভিযোগকে এককভাবে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে অভিযোগটির কিছুটা সামঞ্জস্য রয়েছে।

মক্কা চুক্তির সদস্যদের ওপর যখন সৌদি আরবের নিরাপত্তায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়ছিল, ঠিক সেই সময় পাকিস্তান তার পশ্চিম সীমান্তে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।

এর ফলে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সামনে একটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক যুক্তি তৈরি হতে পারে—দেশটি ইতোমধ্যে আফগান সীমান্তে একটি বড় নিরাপত্তা সংকটে জড়িয়ে আছে। এতে অন্য কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি সামরিক ভূমিকা নেওয়ার চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

আসিম মুনিরের জন্যও আফগান সীমান্ত একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার?

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিও আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে।

সীমান্তের ওপারে বিমান হামলা চালানো তুলনামূলকভাবে সহজে ‘প্রতিশোধ’, ‘শক্তি প্রদর্শন’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার’ বার্তা দিতে পারে। জঙ্গি হামলার পর বিমান হামলার ছবি ও খবর দ্রুত সংবাদ শিরোনাম দখল করে। এতে সামরিক নেতৃত্ব দেখাতে পারে যে তারা হামলার জবাব দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিশোধ আর কার্যকর নিরাপত্তা কৌশল এক নয়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকটের শিকড় খাইবার পাখতুনখোয়া ও সাবেক উপজাতীয় এলাকাগুলোর রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সীমান্তের ওপারে বোমা হামলা সেই সমস্যার বিকল্প হতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সমাধান।

প্রায় এক বছর ধরে আফগানিস্তানে সামরিক চাপ প্রয়োগের পরও যদি পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকে, তাহলে একই কৌশলকে সফল সন্ত্রাসবিরোধী নীতি হিসেবে উপস্থাপন করা কঠিন।

সহিংসতার পুনরাবৃত্ত চক্র

১ অক্টোবরের ঘটনাটি সেই পুরোনো চক্রকেই আরও স্পষ্ট করেছে। আগের দফার হামলার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আফগান বেসামরিক নাগরিকরা আবার পাকিস্তানি বিমান হামলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা সফলভাবে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে।

ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই একটি পরিচিত ধারায় এগোচ্ছে—পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা, এরপর আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলা, বেসামরিক প্রাণহানি, আফগানদের ক্ষোভ এবং পরবর্তী দফায় আরও উত্তেজনা।

এই চক্র হয়তো পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বকে সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না, আফগানিস্তানে শান্তি ফিরছে না এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধেরও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

novelonlite28
umchltd