ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালী ডিবিসি কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবিসি নিউজের কর্মীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিসি নিউজের অফিস থেকে বের হওয়ার সময় নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে কী কারণে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় ডিবিসি নিউজ কর্তৃপক্ষ।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া কোনো মামলার সূত্রে তাকে নেওয়া হয়েছে কি-না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সময়ে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে ডিবি সদস্যরা অফিস থেকে সঙ্গে নিয়ে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ও ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিক।
ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদির অনিক জানিয়েছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ডিবি সদস্যরা নিয়ে যান। তবে কী কারণে তাকে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি তারা।
মুক্তাদির অনিক বলেছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে আটকের বিষয়টি এবং এর কারণ সম্পর্কে তারা পরে জানতে পারেন। জুলাই আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া কোনো মামলার সূত্রে তাকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ডিবিসি নিউজের পক্ষ থেকেও ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। বাইরে থেকে তারা দেখেছেন, ডিবি সদস্যরা তাকে নিয়ে যাচ্ছেন। সে বিবেচনায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা গেলেও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
ডিবিসি নিউজে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বর্তমান কোনো পদ নেই উল্লেখ করে মুক্তাদির অনিক জানান, তিনি অতীতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
এদিকে ডিবিসি নিউজের আরেক সহকর্মী, ক্রাইম চিফ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুক্তাদির অনিক। তিনি জানান, রাজীব ঘোষকে অফিস থেকে ডিবি সদস্যরা সঙ্গে যেতে বলেন। তবে তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে- এমনটি বলা যাচ্ছে না।
মুক্তাদির অনিকের ভাষ্য, রাজীব ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ক্রাইম বিটে কাজ করছেন এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে তার পরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে। সেই সূত্রে ডিবি সদস্যরা তার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চান বলে জানিয়েছেন। তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নয়, বরং কথা বলার জন্য সঙ্গে যেতে বলা হয়েছে- এমনটাই তারা বুঝতে পেরেছেন।
আরও পড়ুন:









