ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ 

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপকে

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপকে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাঁকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার মধ্যরাতে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দীপ। এতে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।

জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দীপ দাবি করেন, সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

দীপের ভাষ্য, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

এর আগে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গণমাধ্যমকে দীপ বলেছিলেন, তাঁর ও তাহসিফের মোটরসাইকেল একই মডেলের। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়ায় তিনি সেটি চালু করতে সহায়তা করেন। পরে দুজন উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কাজ করান। এরপর তাঁরা একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে রাতের খাবার খান। সেখান থেকে বের হয়ে দুজন আলাদা পথে চলে যান বলে জানান দীপ।

এ বিষয়ে শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, দীপ এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন। তাঁর দেওয়া সব তথ্য বিশ্বাস করা হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে জানানো হবে।

novelonlite28
umchltd