ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে একটি নাট্য প্রদর্শনী ঘিরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘এটি কোনো দূতাবাস নয়’ বাংলায় এমন নামের এক প্রামাণ্যধর্মী নাটক বন্ধ করার জন্য চীনের কনস্যুলেট চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে।
ফরাসি ও তাইওয়ানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্রাসবুর্গের এক থিয়েটারে নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। এটি যৌথভাবে নির্মাণ করেছে জার্মান ও তাইওয়ানের নাট্যদল। নাটকটি একটি কাল্পনিক তাইওয়ানি দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের অস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে।
নাটকটি উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হিসেবে নির্বাচিত হয়, যা গণতন্ত্রের ওপর হুমকি নিয়ে কাজ করে। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে স্থানীয় চীনা কনস্যুলেট থিয়েটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপত্তি জানায়। তারা দাবি করে, এই প্রদর্শনী চীন-ফ্রান্স সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে এবং এটি বাতিল করা উচিত।
থিয়েটার কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া না দিলে চীনের ডেপুটি কনসাল জেনারেল সরাসরি স্ট্রাসবুর্গ সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠান। শহরটির মেয়র বিষয়টিকে “অত্যন্ত গুরুতর” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফরাসি আইনে শিল্পের স্বাধীনতা সুরক্ষিত এবং কোনো বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। বিষয়টি আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
চীনা কনস্যুলেট বা প্যারিসে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। একইভাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়াও নীরব রয়েছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জোরালো সমর্থন এসেছে। ফ্রান্সে তাইপেই প্রতিনিধিত্বকারী দপ্তর স্ট্রাসবুর্গ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, “তাইওয়ানের কণ্ঠস্বর কখনোই স্তব্ধ করা যাবে না।” প্যারিসের তাইওয়ান কালচারাল সেন্টারও নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত সময়েই নাটকটি মঞ্চস্থ হবে এবং স্থানীয় সমর্থনও শক্তিশালী।
নাটকের অভিনেত্রী চিয়াও কুও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, গণতন্ত্র বিষয়ক একটি উৎসবে নাটক বন্ধের চেষ্টা আসলে “কারা গণতন্ত্রবিরোধী—তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে চীনা কূটনৈতিক মিশনগুলো বিদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান, তিব্বত, উইঘুর বা ফালুন গং সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে এমন চাপ প্রায়ই দেখা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে স্ট্রাসবুর্গের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন শিল্পের স্বাধীনতা রক্ষা করে বিদেশি চাপ প্রত্যাখ্যান করায় ইউরোপের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন মঞ্চ হয়ে উঠছে। তাই গণতান্ত্রিক সমাজগুলোকে এ ধরনের চাপ মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:









