ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ 

চীনে ধর্মীয় ‘বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’— মার্কিন কংগ্রেসে অভিযোগ

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৪, ৫ মার্চ ২০২৬

শেয়ার

চীনে ধর্মীয় ‘বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’— মার্কিন কংগ্রেসে অভিযোগ

চীনে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের অভিযোগ আবারও মার্কিন কংগ্রেসে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়েছে। ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নীতিকে “বিশ্বাসব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সাবেক রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ স্যাম ব্রাউনব্যাক শুনানিতে অভিযোগ করেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য হুমকি মনে করা ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত দমন অভিযান চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, উইঘুর মুসলিম, তিব্বতি বৌদ্ধ এবং ফালুন গং অনুশীলনকারীরা।

ব্রাউনব্যাকের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীন ধর্মীয় চর্চা নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করতে বেইজিং বিপুল অর্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যয় করছে। বিশেষ করে ফালুন গং অনুশীলনকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শুনানিতে তিনি আরও বলেন, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি—যেমন মুখাবয়ব শনাক্তকরণ, বায়োমেট্রিক ডাটাবেস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং—ব্যবহার করে ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দমন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “রাষ্ট্রবিরোধী সম্ভাব্য নেতৃত্ব” হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের হাজারো মানুষের মধ্য থেকে আলাদা করে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

ব্রাউনব্যাক মার্কিন প্রশাসনকে নিপীড়িত ধর্মীয় নেতাদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি ভারতের ধর্মশালায় অবস্থানরত তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রকাশ্য সাক্ষাতের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ফালুন গং নেতাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলেন।

শুনানিতে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বাজেট কাটছাঁটের কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউএসএইড, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এবং ভয়েস অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোকাবিলায় মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হয় ফালুন গং প্রটেকশন অ্যাক্ট, যা জোরপূর্বক অঙ্গসংগ্রহসহ বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত। বর্তমানে বিলটির পক্ষে মার্কিন সিনেটে একাধিক সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন।

২০১৯ সালে প্রকাশিত এক স্বাধীন তদন্ত ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে ১৯৯৯ সাল থেকে জোরপূর্বক অঙ্গসংগ্রহের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ উত্থাপন করে আসছে।

শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্যে বলা হয়, চীনা সরকারের দৃষ্টিতে স্বাধীন ধর্মীয় পরিচয় কেবল আধ্যাত্মিক বিষয় নয়, বরং তা রাজনৈতিক আনুগত্যের বিকল্প উৎস। ফলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা যেকোনো বিশ্বাসব্যবস্থাকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে এখন প্রশ্ন—চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেই কীভাবে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া যায়। বিষয়টি কেবল মানবাধিকার নয়, বরং বৈদেশিক নীতি ও আইনগত তদারকিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

novelonlite28
umchltd