ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ 

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে অনড় বুয়েট শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২৯, ১ এপ্রিল ২০২৪

শেয়ার

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে অনড় বুয়েট শিক্ষার্থীরা

ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসের দাবিতে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে বুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৩ জন প্রতিনিধি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি রাখব যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত যথাযথভাবে বিচার বিভাগের কাছে তুলে ধরা হোক। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না থাকার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং অটল। যে ছাত্ররাজনীতি র‌্যাগিং কালচারকে প্রশ্রয় দেয়, ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেয়, যার বলি হতে হয় নিরীহ ছাত্রদের। তা কখনোই আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি, আর ভালো কিছু বয়ে আনবেও না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ছাত্ররাজনীতির চরম মূল্য হিসেবে আমরা আমাদের কেমিক্যাল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের সাবেকুন্নাহার সনি, যন্ত্রকৌশল ৯ ব্যাচের আরিফ রায়হান দ্বীপ, তড়িৎ কৌশল ১৭ ব্যাচের আবরার ফাহাদকে হারিয়েছি। ছাত্র রাজনীতিবিহীন বুয়েট ক্যাম্পাস ছিল সর্বোচ্চ নিরাপদ এবং শিক্ষাবান্ধব। মৌলবাদী শক্তিকেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দিতে পারি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশ ও বিদেশ থেকে অ্যালামনাইরাও বুয়েট ক্যাম্পাস ছাত্র রাজনীতিমুক্ত রাখার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে দৃঢ়তা পোষণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা তাদের অবস্থান আমাদের পক্ষে ব্যক্ত করছেন। আমরা বর্তমান শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখি। আমরা শিক্ষার্থীরা আমাদের উপাচার্যকে এই আর্জি জানাচ্ছি তিনি যেন আমাদের শিক্ষকদের নিয়ে আপামর বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের যে আকাঙ্ক্ষা তা যেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করেন।

এর আগে, সোমবার বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিকছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চলতে বাধা নাই। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে বুয়েটশিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলনের মুখে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু ওই ঘটনার চার বছর পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হয় গত ২৭ মার্চ রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় পরদিনই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে রাজনীতির বীজ বপনের চেষ্টা হচ্ছে, এমন অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

novelonlite28
umchltd