ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ 

৬.৩ বিলিয়ন বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থান

জাপান সফরের সুফল পেতে হোমওয়ার্কের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩১, ১ নভেম্বর ২০২৬

শেয়ার

জাপান সফরের সুফল পেতে হোমওয়ার্কের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৫ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য, মাতারবাড়ীতে শিল্পায়ন ও জাপান ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, পরিবেশ ও প্রস্তুতি।

‎ জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। এবার এই সম্পর্ক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন অংশীদারত্বে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে গুরুত্ব পেয়েছে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য। আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

‎ ‎বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক শিল্পায়নে অর্থনৈতিক ভূগোল বদলে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এর কেন্দ্রে রয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালী অঞ্চল। বাংলাদেশ-জাপানের বিগ-বি উদ্যোগের লক্ষ্য বন্দর, জ্বালানি, যোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চলকে যুক্ত করে অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা।

‎নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপান ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ বাড়লে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এজন্য প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

‎ ‎এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ইপিজেড বাস্তবায়ন, পণ্যের মান উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।

‎অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা, সহজ অনুমোদন ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

‎ ‎বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ জনশক্তি ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে।

 

novelonlite28
umchltd