ঢাকা বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ 

ডিবি কার্যালয়ে গুলশানের সেই ‘মাতাল’ তরুণীদের কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

শেয়ার

ডিবি কার্যালয়ে গুলশানের সেই ‘মাতাল’ তরুণীদের কাণ্ড

রাজধানীর গুলশানে একটি মদের বারের সামনে মাতাল কয়েকজন তরুণী মিলে এক নারীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে ডিবি। বুধবার গ্রেফতারের পর তাদের মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে মারধরের শিকার নারীও ছিলেন। 

কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে এসেও অভিযুক্ত তরুণীরা ভিকটিম নারী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ডিবি কার্যালয়ে ভিকটিমসহ অভিযুক্ত তিন তরুণীরই মুখ ঢাকা ছিল। সাংবাদিকরা তিন তরুণীর ফুটেজ নিতে চাইলে তারা আপত্তি জানান।  

এ সময় এক তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনার (ভিকটিম) সঙ্গে আমাদের প্রবলেম হইছে, আমরা আমরা সলভ করব। এখানে মিডিয়া রিলেটেড তো কিছু না’।  পাশ থেকে আরেক তরুণী বলেন, ‘মিডিয়া কেন এখানে ফুটেজ নেবে’। 

অন্যজন বলেন, ‘এটা মেয়েদের বিষয়।  আমাদের প্রেস্টিজ আছে না! আমাদের ফ্যামিল ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। দিস ইস নট রাইট’। 

এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আবার ফুটেজ নিতে চাইলে তরুণীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।  তারা বলতে থাকেন, ফুটেজ নেবেন কিসের জন্য। আমরা মেয়ে মানুষ। আমরা নিজেরা এটা সলভ করব। 

এক পর্যায়ে  ফুটেজের জন্য নারী পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত তরুণীদের লাইনে দাঁড় করালে আরও একদফা তর্কে জড়ান তারা। ছবি তোলার জন্য সাংবাদিরা তাদেরকে সামনে দিকে তাকাতে বললে এক তরুণী বলেন, ‘এখানে কি আমরা নাটক করব যে, আপনাদের মুখ দেখাতে হবে’। আরেকজন বলেন, ‘পাত্রী দেখতে আসছেন’? অন্য তরুণী বলেন, ‘আমরা কি ছেলে মানুষ’। 

এভাবে আরও কিছু সময় পার হওয়ার পর ‘সেদিন রাতে’ কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তরুণীদের কাছে জানতে চান  সাংবাদিকরা।  কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেবেন না বলে সেখান থেকে চলে যান।  যাওয়ার সময় একজন বলতে থাকেন, ‘আপনাদের মিডিয়াতে ভিউ বাড়ানোর জন্য আমাদের মানহানি করার তো কোনো দরকার নাই’। 

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। কিছু দূর যাওয়ার পর ভিকটিমের মুখোমুখি হন এক তরুণী। ‘আমরা আপনার (ভিকটিম) সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছিলাম’ বলে ফের ঝগড়ায় জড়ান ওই তরুণী। এসময় সাংবাদিকরা সামনে এসে ভিডিও ধারণ করলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, ‘আমার এখন মেজাজটা খারাপ হবে, এগুলো (ক্যামেরা) সামনে থেকে সরান’। 

এ সময় পেছন থেকে ওই তরুণীর উদ্দেশে ভিকটিম বলতে থাকেন, ‘অপরাধ করতে পারো, রাস্তায় একটা মেয়ের শাড়ি খুলতে পারো, তাহলে চেহারা দেখাতে দোষ কিসের’। 

এরপর পেছন ফিরে ভিকটিমের দিকে তেড়ে আসেন ওই তরুণী এবং বলেন, ‘তাহলে তুমি চেহারা দেখাও। তুমি দেখালে আমিও দেখাব। 

জবাবে মারধরের শিকার নারী বলেন, ‘আমি ভিকটিম, আমি কেন মুখ খুলব’। পরে দায়িত্বরত নারী পুলিশ সদস্যরা উভয়কে ঝগড়া থামাতে বলেন এবং অভিযুক্ত তরুণীকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। 

novelonlite28
umchltd