ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে- এমন সন্দেহের কথা আগেই আদালতে জানিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
এবার তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তাহসিফের বন্ধু ও স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শুনানিতে এমন বক্তব্য দেন তিনি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দীপের রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে এ সন্দেহের কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
এর আগে দীপের প্রথম দফার রিমান্ড শুনানিতে গত ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সন্দেহ প্রকাশ করে আদালতকে বলেছিলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তীকালে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়। এ কারণে ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে।
চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দীপকে আদালতে হাজির করে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনে তিনি আটটি কারণ উল্লেখ করেন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, গত ২৭ অক্টোবরের ঘটনা। এ আসামি ভিকটিমকে ওই দিন সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। তারা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। সেখান থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যায়। সেখান থেকে যায় তুরাগ নদীর পাড়ে। সেখান থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। একজন নদীতে পড়ে যান। আর এ আসামি বাসায় চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, তার সহকর্মী বা বন্ধু যে নদীতে পড়ে গেছে, হারিয়ে গেছে, তার কি হয়েছে না হয়েছে এ বিষয়ে উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। বিষয়টি কাউকে জানায়ওনি। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলায় সম্পৃক্ত থাকায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে সে ভাসা ভাসা তথ্য দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার জন্য তাকে আবার সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অন্য কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন আইনজীবী সুমন। তিনি বলেন, আমরা এনায়েত করিম চৌধুরী, ভারতীয় নাগরিক রবিউলকে ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মোটিভ আর এই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার পর মোটিভ একই মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ আসামি যেমন ভাসা ভাসা তথ্য দিচ্ছে, তারাও একই রকমভাবে তথ্য দিয়েছিল। আমরা সন্দেহ করি, দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতে পারে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই রাতেই তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত শনিবার প্রথম দফায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নামেন তাহসিফ। এরপর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি।
২৯ অক্টোবর দীপ জানিয়েছিলেন, একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। এ ছাড়া দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। একপর্যায়ে গত শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
এদিকে, এ মামলায় গত রোববার তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:









