ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ 

১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই: নৌমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার

১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই: নৌমন্ত্রী

দেশে প্রাকৃতিকভাবে থাকা প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ‘অষ্টম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো-বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান জাতি যে আমাদের সমুদ্র, নদী এবং জলরাশির আধিক্য অনেক বেশি। প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটারের মতো নৌপথ আমাদের আছে প্রাকৃতিকভাবে। কিন্তু আমরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা এই খাতের প্রতিটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।’

সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সমুদ্র সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। সমুদ্রের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সম্পদ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

দেশের সমুদ্রবন্দর ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধাসম্পন্ন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও সেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লালদিয়া ও পানগাঁওসহ বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনালের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডকেও কনটেইনার টার্মিনালে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে জ্বালানি, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাছ আহরণ থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামুদ্রিক খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানান শেখ রবিউল আলম। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকার এ খাতের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী।

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে এগিয়ে আসতে চায়, সরকার সেভাবেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর অনেক সময় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোতে হবে।

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে সামুদ্রিক ও অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বৈঠক, সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন রয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, বন্দর পরিচালনা ও অফশোর কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

novelonlite28
umchltd