মধ্যবর্তী নির্বাচন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন চান ভোটাররা: ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৯:৩৯ এএম, ৫ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:৩৮ এএম, ৫ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২টি কারণে সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটেছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স; প্রথম কারণটি হলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং দ্বিতীয়টি হলো ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক।

৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পরের দিন ৪ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রিপাবলিকান পার্টির রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট— উভয়েই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। কারণ এতদিন পার্লামেন্টে ট্রাম্প প্রশাসনের যে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল— এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা অনেকাংশে অপসারিত হয়েছে। অনেক মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের এই ফলাফল আসলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নীতিমালার প্রতি মার্কিন ভোটারদের এক ধরনের প্রত্যাখ্যান।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ভ্যান্স লেখেন, ট্রাম্পের সমর্থকরা অন্য শিবিরে (ডেমোক্র্যাটদের দিকে) ঝুঁকে পড়ায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে।

এক্সবার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।” তিনি কয়েকজন নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপকারীর (পোলস্টার) কথা উল্লেখ করেন, যাদের একজন আগেই ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

“যেসব ভোটার ও সমর্থক আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন, তাদের ওই জরিপকারী জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কী করলে তারা আবার আমাদের পক্ষে ফিরে আসবেন। প্রায় সব উত্তরের সারসংক্ষেপ হিসেবে চারটি প্রধান পয়েন্ট উঠে এসেছে— ১) ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা। ২) জীবনযাত্রার ব্যয় বা মুদ্রাস্ফীতির দিকে নজর দেওয়া। ৩) ‘আমেরিকা প্রথম’ (আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া) নীতি অনুসরণ করা এবং ৪) ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।”

ভ্যান্স একজন রক্ষণশীল মার্কিন টিভি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বের পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন। ওই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরান সংঘাত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি লেখেন, “এখন দেখা যাচ্ছে, তার রাজনৈতিক পরামর্শটি সঠিক ছিল। আমরা যে হেরেছি, তার কারণ হলো এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও এমনটাই বলেছেন।”

মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াটা রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন—যা ভ্যান্স তার দীর্ঘ পোস্টে করেননি।

বুধবার ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী মূল্যায়ন নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার আগে ভ্যান্স এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে ব্যাপকভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত তার আপত্তির কারণেই এপ্রিল মাসের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ইসরায়েল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবর ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু—উভয়ের প্রতিই অত্যন্ত জোরালো সমর্থন জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী জে ডি ভ্যান্স এ ইস্যুতে অনেক বেশি সংযত বা শীতল মনোভাব নিয়ে চলেন। গত মাসে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জোরালো সমর্থন দিলেও, ভ্যান্স তা করা থেকে বিরত ছিলেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় গত জুন মাসে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ভ্যান্স। জুলাই মাসে তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু অংশ আলোচনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার লক্ষ্যে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

গত মাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলোকে ইসরায়েলের নীতির ‘অধীন’ হতে দেওয়া যায় না; বরং ওয়াশিংটনকে অবশ্যই নিজেদের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল