নেতানিয়াহুকে হারাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বাধা ‘বর্ণবাদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৯:৪১ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

ইসরায়েলের নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির জোট এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভূমিকার মুখোমুখি। তবে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধ রয়েছে।

আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে ৫৩টি আসনে এগিয়ে। প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৮টিতে। আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে এগিয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

নেতানিয়াহুকে হারাতে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেটি হলো- তাদের একজোট হওয়া। কিন্তু ইতিহাসে এমন নজির নেই। আগামীতেও হবে কিনা, সেটি অনুমান করে বলা যায় না।

যদিও এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীদের একজোট হওয়ার দাবি উঠেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু নির্ভার। এর পেছনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পথে একটি ‘ইস্যু’ বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এবং সেটি হলো ‘বর্ণবাদ’।

বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শাহাদেহ নিজেই এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আবু শাহাদেহ বলেন, ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী যদি দেশটির ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তা বর্ণবাদী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কেউ বলেন যে তিনি জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে সরকার গঠন করতে চান না, তখন সেটি বর্ণবাদ। আর বর্ণবাদ কুৎসিত, তার শিকার ইহুদিরা হোক বা আরবরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট তার প্রার্থিতা বাতিল করার হুমকি দেওয়ার পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন আবু শাহাদেহ। তার অভিযোগ, আরব দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আবু শাহাদেহ আরও বলেন, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আরব নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর নেতৃত্বকে ভোট দিয়েছেন। তাই এ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কে এভাবে কথা বলা কেন বৈধ বলে বিবেচিত হবে? একই সঙ্গে আইজেনকট ও তার রাজনৈতিক সহযোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্ণবাদী আচরণ যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা বিশ্ববাসীর জানানো উচিত।

আবু শাহাদেহর ভাষ্য, তার বর্ণবাদী মনোভাবই তাকে জোট গঠন থেকে বিরত রাখছে। কারণ, এ মনোভাব দেশের ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি আমাদের মোকাবিলা করা উচিত।

সূত্র: আল জাজিরা