রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদন সফরে পরিণত করার আয়োজন চলছে: ১১ দলীয় ঐক্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৮:২৩ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদনমূলক সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলের বৈঠক হয়। বৈঠকে শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ঐক্য শরিক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সফরসঙ্গী হিসেবে এমন ব্যক্তিদের নেওয়া হয়েছে, যারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এসব বিষয় দেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও সংশয় তৈরি করছে। সরকার বিষয়গুলো নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদের আসন্ন চতুর্থ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের পথে এগোবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। মামুনুল হক বলেন, আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন শেষে তা কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। আমরা বলতে চাই, কোনো পক্ষ থেকে লংমার্চে অপতৎপরতা চালানো হলে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করে লংমার্চ সফল করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে ১১ দলীয় ঐক্য নীরব থাকবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।
গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর যাওয়ার সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মামুনুল হক বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখছি না। গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক মানুষ লংমার্চে অংশ নেবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যারা অভিযোগ করছেন, তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন। ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের অংশ নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের সংগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির আল্লামা আবু জাফর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ,এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা প্রমুখ।
