মানবতাবিরোধী অপরাধ
চলতি সপ্তাহেই আমুসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৩:৩১ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগের তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উপদেষ্টাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে।
ওই সময়ের তথ্য অনুযায়ী, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, ফারুক খান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও মির্জা আজমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে।অভিযোগ হতে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দমন-পীড়নে এসব নেতার নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরামর্শ, সহযোগিতা, সমর্থন ও উসকানির অভিযোগ রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের বিষয়টিও রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এদিকে জাহাঙ্গীর কবির নানক বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলারও আসামি। ওই মামলায় নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও বিচার শুরু হয়েছে। কয়েকটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
