ইরান সীমান্তের কাছে গিয়েও পিছু হটল কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৩১ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
মধ্যপ্রাচ্যের দুই মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্তের একেবারে কাছে পৌঁছেও ফিরে এসেছে দখলদার ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান।
ইরানি বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করে নতুন করে হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি মিডিয়া চ্যানেল ১২ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে তুরকি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ অভিযানকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দেশটির বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। এরপর ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই সেগুলো ইসরায়েলের দিকে ফিরে যায়।
চ্যানেল ১২-কে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল হয়তো আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে। তেমনটি হলে সেই ঘটনাকে ইরানে হামলা চালানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারত।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্তের একেবারে কাছে পৌঁছেও ফিরে এসেছে দখলদার ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান।
ইরানি বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করে নতুন করে হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি মিডিয়া চ্যানেল ১২ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে তুরকি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ অভিযানকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দেশটির বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। এরপর ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই সেগুলো ইসরায়েলের দিকে ফিরে যায়।
চ্যানেল ১২-কে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল হয়তো আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে। তেমনটি হলে সেই ঘটনাকে ইরানে হামলা চালানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারত।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযানটিকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযানে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি ছিল। এর ফলে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারত এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অভিযানটি পরিচালনার আগেই ওয়াশিংটনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইরানকে হামলা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে এ মহড়া চালানো হচ্ছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যে ইসরায়েলি বিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে, সে বিষয়েও ইসরায়েল অবগত ছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের সময় এ অভিযান চালানো হয়। সফরে তিনি ওভদা বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু?
এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলো প্রাথমিকভাবে ১০ অক্টোবর চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে আপত্তি জানান। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে চাননি তিনি। ফলে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এই অভিযান এবং ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। তবে সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমান পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে পাল্টা হামলা উসকে দেওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়ন; এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কোনো ঘটনা নয়।
সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি
