হুতিদের হামলায় ইয়েমেনের ৮ সেনা সদস্য নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত : ১০:০৭ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রোববার

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ লাহিজে হুতি বাহিনীর হামলায় ৮ ইয়েমেনি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী এই তথ্য জানায়। খবর আলজাজিরা।

এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট তুর আল-বাহাহ মিলিটারি এক্সিস জানিয়েছে, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে এই ‘বীররা’ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হলো এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো কিছু জানানো হয়নি। এ ছাড়া হুতি বিদ্রোহীরাও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই ঘোষণার পর ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা তাইযের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আকরুদ এলাকায় ১২ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

এর আগে শনিবার সকালে তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক ইয়েমেনি নিহত হন। যার মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। এ ছাড়া ওই হামলায় আরও পাঁচজন আহত হন।

শরিবার আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪১৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী।

এসব হামলায় প্রায় ৮০০ হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি। তিনি জানান, অভিযানে হুতিদের ১৯০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান, যুদ্ধ সরঞ্জাম, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস অথবা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিভিন্ন দুর্গ ও গোলাবর্ষণের অবস্থানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চলতি বছরের জুলাই থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর নতুন করে ব্যাপক লড়াই শুরু হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে সানায় বোম্বিংয়ের পর হুতি ও ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে সরাসরি জড়িত হয়। জবাবে হুতিরাও সৌদির বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা করেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ একাধিক প্রদেশ দখল করে। এরপরই দেশটিতে শুরু হয় শতাব্দীর অন্যতম খারাপ গৃহযুদ্ধ। হুতিদের সানা থেকে হটিয়ে দিতে ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

এই গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের বেশির ভাগ মানুষ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। চলমান এই যুদ্ধে আবারও একই পরিস্থিতিতে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে তারা।