এআই ভিডিও নিয়ে মেহজাবীনের স্ট্যাটাস

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত : ১০:৫৭ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, এটি একটি অপরাধ।’ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ভেডিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

ওই স্ট্যাটাসে মেহজাবীন উল্লেখ করেন, কিন্তু যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?

‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’

মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা, হয়তো সেখান থেকে কয়েকটা ডলার আয়। আমি বুঝি, মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করাই এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। সেই বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?

আর বিষয়টা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ভিউ, এনগেজমেন্ট আর ট্রেন্ডিংয়ের এই প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারে যে কেউ, আবার এর শিকারও হতে পারে যে কেউ।

জেনে বুঝে যারা এআই নির্মিত ভিডিও শেয়ার করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে মেহজাবীন লিখেছেন, আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই মানুষটি নয়, যে এমন কিছু তৈরি করছে। বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় সেটি শেয়ার করছে, আলোচনা করছে এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অশালীন এআই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যেখানে দেশের দুজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মুখায়ব ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ওই টেলিভিশন চ্যানেলটি তাদের আইডি উদ্ধার করে এবং ওই ভিডিও সরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।