রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯
ঢাকা এজ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:১৭ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রোববার
সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। গতকাল শনিবারের এ হামলা চলতি সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এদিকে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি গতকাল শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের হামলাটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি হয়। দেশটির হুমকি সতর্কীকরণ ব্যবস্থাতেও কোনো সতর্কবার্তা জারি হয়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও দুই দফা হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় চারজন নিহত হন এবং রানওয়েতে থাকা সৌদি একটি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে। তবে হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তারা শত শত হামলা চালিয়েছে। হুতিরা এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
এদিকে হামলার পর গতকাল শনিবার রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হুতিদের মিডিয়া অফিসের প্রধান হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, তারা ‘রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে’। এর আগে হুতিরা বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায় এবং সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করে।
শনিবারের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওয়াশিংটন হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যোগ দেবে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখব। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্র পেয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এসব ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।’
বিমানবন্দরে আহতদের পড়ে থাকতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শী
শনিবার বিমানবন্দরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিস্ফোরণের সময় সেখানে ছিলেন। তিনি বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের ভেতরে মাটিতে বেশ কয়েকজন আহত মানুষকে পড়ে থাকতে দেখেন।
বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের দিকে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যেতে দেখা যায়। রয়টার্স যাচাই করা একটি ভিডিওতেও বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।
আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে জানান, বিমানবন্দরের বাইরে আকাশে তিনি কোনো একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখেন। এরপর একটি প্রস্থান গেটের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার বিষয়ে অবগত এবং সব মার্কিন নাগরিককে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
