পাকিস্তানে আবারও দুই অঙ্কে মূল্যস্ফীতি, আগস্টে ১১.১ শতাংশ
ঢাকা এজ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:২৮ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
পাকিস্তানে আবারও মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে উঠেছে। চলতি বছরের আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার পর এক মাসের ব্যবধানে তা আবার দুই অঙ্কে ফিরে এসেছে।
পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (পিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে জুনে দেশটির মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ, মে মাসে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, এপ্রিলে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মার্চে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় এ সময়ে মাসিক মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।
আগস্টে শহরাঞ্চলে সিপিআই ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশে। এ সময়ে সেনসিটিভ প্রাইস ইনডেক্স (এসপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং পাইকারি মূল্যসূচক (ডব্লিউপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশে।
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই সতর্ক করে বলেছিল, নিকট মেয়াদে মূল্যস্ফীতি কিছুটা উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক মূল্যচাপ এবং আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি দামের ওঠানামার প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে পারে। মন্ত্রণালয়ের আগস্টের মাসিক অর্থনৈতিক হালনাগাদ ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ওই মাসে সিপিআই মূল্যস্ফীতি ১০ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
পিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের দাম এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং শিক্ষার খরচ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।
এ ছাড়া আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানিসহ ইউটিলিটি খাতে দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। পোশাক ও জুতার দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশের কাছাকাছি।
অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় ও তামাকের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই সময়ে রেস্তোরাঁ ও হোটেলসেবার দাম গত বছরের আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির এই পুনরুত্থান পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
