অস্ট্রেলিয়া-ভারত নতুন প্রযুক্তি জোট ‘প্যাক্টস’ ঘোষণা

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত : ০১:৩১ এএম, ১০ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ অন সাইবার, ক্রিটিক্যাল টেকনোলজিস অ্যান্ড সাপ্লাই চেইনস ‘প্যাক্টস’ নামে একটি নতুন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে।

দুই দেশ জানিয়েছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হবে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা।

পাঁচটি প্রধান সহযোগিতার ক্ষেত্র

নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় সহযোগিতা পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।

প্রথমত, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা ও বৈচিত্র্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত প্রযুক্তি সরবরাহকারী কাঠামো তৈরি, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উন্নয়ন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, জৈবপ্রযুক্তি এবং উন্নত উপকরণ নিয়ে যৌথ গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ এবং নিরাপদ এআই ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, সাইবার নিরাপত্তা। সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, জাতিসংঘের সাইবার সংক্রান্ত উদ্যোগে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই দেশের জন্য একটি যৌথ সাইবার দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

চতুর্থত, ডিজিটাল স্থিতিশীলতা। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার মডেলকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্প্রসারণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং ডিজিটাল রূপান্তরে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চমত, প্রতিরক্ষা গবেষণা। সামুদ্রিক নজরদারি, উন্নত উপকরণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে দুই দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ ও শিল্পখাতের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগও বাড়ানো হবে।

সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্বে গুরুত্ব

অস্ট্রেলিয়া ও ভারত জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হবে। যৌথ গবেষণার ফলাফলকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন উদ্যোগ শুধু অস্ট্রেলিয়া-ভারত কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।