অনলাইন নিয়োগের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি বাড়াচ্ছে চীন
ঢাকা এজ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৪৫ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম ও পেশাদার নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্যের অধিকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের পাঁচটি প্রধান গোয়েন্দা অংশীদার দেশের জোট ‘ফাইভ আইজ’।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ফাইভ আইজ জোট জুনের শুরুতে প্রকাশিত যৌথ বুলেটিন “সেফগার্ডিং আওয়ার সিক্রেটস”-এ জানায়, চীনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের অনলাইনে নিয়োগের চেষ্টা করছে।
বুলেটিনে বলা হয়, চীনের সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোপন তথ্য সংগ্রহ করা, যা ফাইভ আইজ দেশগুলোর বিরুদ্ধে কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল সুবিধা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, চীনা গুপ্তচররা বিশেষভাবে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও গোয়েন্দা খাতের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কর্মরত সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করছে। এছাড়া সাংবাদিক, থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক গবেষক এবং সরকারি তথ্যের সীমিত প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, অনলাইন নিয়োগের মাধ্যমে প্রার্থীদের আকৃষ্ট করে পরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে তারা চীনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ক্লায়েন্টদের কাছে গোপন তথ্য সরবরাহ করে। এসব তথ্যের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রতি প্রতিবেদনের জন্য কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন, আর আরও সংবেদনশীল তথ্যের জন্য অর্থের পরিমাণ বাড়তে পারে।
সতর্কবার্তা প্রকাশের এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ১৩টি ভুয়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বর্তমান ও সাবেক নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী কর্মকর্তা এবং গোপন তথ্যের প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) বিশেষ এজেন্ট ডমিনিক ইভান্স বলেন, “চীনা সরকার প্রতারণামূলক চাকরির বিজ্ঞাপন ও অনলাইন নিয়োগসহ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন, গবেষণা ও সংবেদনশীল তথ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এমআই৫ পার্লামেন্টে চীনা গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করেছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপারেটিভরা দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল, ঘুষ, সাইবার হ্যাকিং এবং গোপন তথ্য সংগ্রহের মতো প্রচলিত ও আধুনিক গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল ব্যবহার করে আসছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মনে করে, ফাইভ আইজের মতো বহুপাক্ষিক গোয়েন্দা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
