তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে চীনের কোস্ট গার্ড টহল ‘উসকানিমূলক’

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৬:৩১ পিএম, ১৫ জুন ২০২৬ সোমবার

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমায় চীনের কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক টহলকে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু সোমবার বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রতি গুরুতর চ্যালেঞ্জ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও কোস্ট গার্ড ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করবে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। সম্প্রতি জাপান ও ফিলিপাইন তাদের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দিলে বেইজিং তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে। চীনের মতে, এই আলোচনার সঙ্গে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমার বিষয়ও জড়িত।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার জানায়, জাপান ও ফিলিপাইনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকায় ‘বিশেষ সামুদ্রিক আইন-প্রয়োগ অভিযান’ পরিচালনার জন্য কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর জবাবে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড নিজস্ব টহল জাহাজ পাঠিয়ে চীনা জাহাজগুলোকে সতর্ক করে এবং দাবি করে যে সেগুলোকে সীমিত জলসীমা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কু বলেন, “এটি শুধু একটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ নয়, এটি মানসিক ও তথ্যযুদ্ধেরও অংশ। চীন ধীরে ধীরে পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।”

সোমবার চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক চীনা কর্মকর্তা তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডকে উদ্দেশ করে বলছেন, “ভাষা ব্যবহারে সতর্ক হোন—তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশই এক চীনের অংশ।”

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, চারটি চীনা জাহাজ সোমবার ভোরের দিকে বিতর্কিত জলসীমা ত্যাগ করে পূর্ব দিকে চলে যায়।

এদিকে তাইওয়ানের ওশান অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের প্রধান কুয়ান বি-লিং অভিযোগ করেছেন, মে মাসের শুরু থেকে চীন ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে অভিযান এবং তাইওয়ানের নিকটবর্তী জলসীমায় গবেষণা জাহাজ পাঠানো।

তিনি বলেন, “সমুদ্র শান্তির ক্ষেত্র হওয়া উচিত, সংঘাত ও হুমকির নয়।”

তাইওয়ান আরও জানিয়েছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিমানবাহী রণতরী ‘লিয়াওনিং’-এর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনও তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কুর মতে, বর্তমানে রণতরীটি ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমার কাছে অবস্থান করছে।

উল্লেখ্য, চীন কখনও তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তবে তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।