মার্কিন-ইরান মধ্যস্থতা স্থবির, চাপে পাকিস্তানের অর্থনীতি
ঢাকা এজ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৬:৫৯ পিএম, ১৪ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুর কাছাকাছি পৌঁছেছে পাকিস্তান। তবে এখনো স্থায়ী শান্তির কোনো ইঙ্গিত না মেলায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে নতুন করে চাপে পড়েছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা, সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে পাকিস্তানের পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এপ্রিল মাসে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর শান্তি প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় ইসলামাবাদের জন্য সম্ভাব্য স্বস্তির পথও সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বাড়তি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক অর্থায়নে চাপ এবং উপসাগরীয় মিত্রদের কাছ থেকে কঠোর শর্তযুক্ত সহায়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেতে পারে, যদি আমদানি ও প্রবাসী আয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিবর্তিত না হয়।
প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যালি ডেভিস জানান, তাদের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতি ব্যারেল তেলের গড় মূল্য ১১৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বছরের শেষে কমে ৭৯ ডলারে নামবে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ “উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি” ঘটবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা কমে ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৮ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়, যেখানে যুদ্ধের আগে এর দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞামূলক চাপ বাড়তে থাকায় ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ ও ক্রেতাদের ওপরও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জ্বালানি আমদানি কমাতে ও জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্চ মাস থেকে পাকিস্তান সরকার একাধিক কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চার দিনের কর্মসপ্তাহ, সরকারি কর্মীদের ৫০ শতাংশ রিমোট ওয়ার্ক, সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ভাতা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা।
সোমবার প্রকাশিত অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় কিছুটা কমে সাময়িকভাবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে, যা পাকিস্তানের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির জন্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।
