১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী বিতর্ককে সক্রিয় রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুনর্গণনার দাবি ও আইনি লড়াই
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পায়।
নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১১ দলীয় জোট নির্বাচন কমিশনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানায়। এসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১,০২৬ থেকে ১৩,৬৩২ ভোটের মধ্যে।
জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ, জাল স্বাক্ষর এবং কিছু ক্ষেত্রে পেন্সিল দিয়ে ফলাফল প্রস্তুত করা।
এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩টি আসনে আদালতে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মামলাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে আইনি পদক্ষেপ
জামায়াত নেতাদের মতে, এই পুনর্গণনা আবেদন ও আইনি চ্যালেঞ্জ মূলত একটি রাজনৈতিক বার্তা—যার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রশ্নকে জনমনে সক্রিয় রাখা এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও আসনে আইনি চ্যালেঞ্জ বাড়ানো হতে পারে।
সাবেক উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনী বিতর্ককে আরও জোরদার করতে জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং খলিলুর রহমান-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
দলটির দাবি, রিজওয়ানা হাসানের টেলিভিশন বক্তব্যে নির্বাচনে কারচুপির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া খলিলুর রহমানকে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জামায়াত।
গত ৫ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত এ দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানায়। পরে বিভিন্ন সময় একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংসদ ও রাজপথে সক্রিয় অবস্থান
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ৯ মার্চ রাজধানীতে এক ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট দলের বিজয় চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম জনগণের বিজয়। সেই বিজয় বাস্তবায়িত হয়নি।”
অন্যদিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আপাতত দলটি এই দুই উপদেষ্টার বিষয়ে তদন্তের দাবিতে জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হতে পারে।
দলটি জানিয়েছে, তারা আপাতত বড় ধরনের মাঠ আন্দোলনে যাচ্ছে না। তবে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়গুলো সক্রিয় রেখে সংসদ এবং জনপরিসরে জোরালো অবস্থান বজায় রাখবে।
আরও পড়ুন:









