ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ 

কাবুলে হামলা: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির গুরুতর অভিযোগ

ঢাকা এজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

শেয়ার

কাবুলে হামলা: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির গুরুতর অভিযোগ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গত ১৬ মার্চ ২০২৬ পাকিস্তানের বিমান হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, পাকিস্তান যে স্থাপনাটিকে সামরিক অবকাঠামো ও গোলাবারুদের গুদাম বলে উল্লেখ করেছিল, তদন্তে তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। বরং উপগ্রহচিত্র, যাচাইকৃত ভিডিও এবং ধ্বংসাবশেষের স্বাধীন ভূ-অবস্থান বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংস্থাটি বলছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি চিকিৎসা ও মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবুলের নবম পুলিশ জেলার একটি প্রাচীরবেষ্টিত কম্পাউন্ডে চালানো ওই বিমান হামলায় আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। 

হামলার পর পাকিস্তান জানায়, লক্ষ্যবস্তুটি ছিল অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামোসমৃদ্ধ একটি স্থাপনা। দেশটির দাবি, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটলেও তা মূল হামলার কারণে নয়, বরং পরবর্তী বিস্ফোরণের ফলে হয়েছে।

তবে গত ৯ জুলাই প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্তে বলা হয়, সংস্থাটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর দাবির পক্ষে প্রমাণ চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইসলামাবাদ এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। সংস্থাটির মতে, এই নীরবতাই ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সীমান্ত উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউএনএএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে পাকিস্তানের একাধিক বিমান অভিযানে আফগানিস্তানে ৭৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টির তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার শিকার ওমিদ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ২০২১ সালের পর সম্প্রসারিত হয়ে প্রায় দুই হাজার রোগীর চিকিৎসা দিত। ২০২৩ সালে কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রচারিত হয়েছিল এবং ভবনের প্রধান ফটকে এটি একটি চিকিৎসাকেন্দ্র বলে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, কাবুলে এই বিমান হামলা ঘিরে পাকিস্তান ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরস্পরবিরোধী দাবি এখন শুধু একটি সামরিক অভিযানের বৈধতা নয়, বরং সংঘাতকালীন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

novelonlite28
umchltd