ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা থেকে মিত্র সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আজ মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষায় ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর (আরএএফ) ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে। এগুলো আকাশে ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ (ডিফেনসিভ কাউন্টার-এয়ার মিশন) পরিচালনা করবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, ব্রিটেন ইতিমধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমানকে মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহের (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) সুবিধা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও ব্রিটিশ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও স্পষ্ট করেন, ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত সৌদি আরব লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস বা প্রতিহত করবে। তবে এগুলো ইয়েমেনের ভেতরে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে না।
গত এক মাসে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে হুথিরা। সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। গত এক দশকের মধ্যে সৌদির মাটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালানোর পর গত জুলাই মাসে হুথিরা পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়। তখন তারা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ স্থাপনা ছাড়াও লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের মিত্র সৌদি আরবের ওপর হুথিদের অব্যাহত হামলা একেবারেই ন্যক্কারজনক। বিশেষ করে রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো থেকেই স্পষ্ট যে আঞ্চলিক উত্তেজনাকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে হুথিরা।”
এদিকে গত মাসে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য করিডরে ইরানের প্রভাব আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সৌদি যুদ্ধবিমানের সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করে। তবে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান সত্ত্বেও বেশ কিছু কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনো হুথিদের হাতেই রয়েছে এবং তারা সেখান থেকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫৩ জন সরকারপন্থী সেনা নিহত হয়েছেন।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনে নিয়োজিত মার্কিন মিশন। এক বিবৃতিতে তারা এটিকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন মিশন বলেছে, যেসব মানুষ নিজেদের দেশ ও এলাকার নিরাপত্তায় স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিলেন, তাদের ওপর এই বর্বরতা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:









