ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ 

প্রতারিত ৪২ শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংসের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৪

শেয়ার

প্রতারিত ৪২ শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংসের মুখে

রাজশাহীর বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের প্রতারিত ৪২ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন ধ্বংসের মুখে। এমবিবিএস প্রফেশানাল কোর্সে ভর্তির জন্য কেউ দিয়েছেন ১৫ লাখ, কেউ ১৮ লাখ টাকা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, অনুমোদন না থাকার পরও ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রতিষ্ঠানটি। ডাক্তার হওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় পরিবারের বসতভিটা-জমিজমা বিক্রি করে এই দুই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এতো দিনেও তারা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিসির নিবন্ধন পাননি। প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা এখন দিশেহারা।

প্রতারিত শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্য কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে তাদেরকে মাইগ্রেশন দেওয়া হোক। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন। ২৩ মার্চ রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন দাবি করেন তারা। এ সময় তারা আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন।

জানা গেছে, শাহমখদুম কর্তৃপক্ষের এমন প্রতারণা এই প্রথম নয়। প্রথমে মেডিকেল কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধীনে ছিল। রাবির একাডেমিক কাউন্সিল ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়। কিন্তু কলেজটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন প্রতারণামূলকভাবে ৫০ জন ভর্তি করেন। ফলে রাবি কর্তৃপক্ষ ভর্তির অনুমোদন বাতিল করে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রামেবির পক্ষ থেকেও পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে মেডিকেল কলেজটিতে ভর্তি না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ভর্তি হওয়ার দুই বছর পর জানতে পারেন শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের কোনো বর্ষেরই অনুমোদন নেই। এ পর্যন্ত শাহমখদুম থেকে মাত্র ৪ শিক্ষার্থী এমবিবিএস সম্পন্ন করলেও তাদেরকে চিকিৎসক হিসাবে নিবন্ধন দেয়নি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। ২০২০ সালের আগের কয়েক ব্যাচের শিক্ষার্থীকে অন্য প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন দেওয়া হয়। ওই সময় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শাহমখদুমের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না, ইশতিয়াক হাসান ও সাবিয়া খাতুনসহ অন্যরা জানান, তারা চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাধীন তাদেরকে বলেছেন, এখন তার কিছু করার নেই। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা সংবাদ সম্মেলন করায় জোরপূর্বক তাদেরকে হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে তারা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজশাহী চন্দ্রিমা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া ২১ শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের প্রতারণার প্রতিকার ও শিক্ষাজীবন বাঁচানোর দাবিতে রাজশাহীর একটি আদালতে মামলা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এজেএড মোস্তাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমাদের কিছু করণীয় নেই। মন্ত্রণালয় প্রতারিত শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন দিলে তবেই সম্ভব। এ বিষয়ে শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ২০২০ সালে মন্ত্রণালয় কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে। তবে মন্ত্রণালয়ের সেই আদেশের কার্যকারিতা উচ্চ আদালত স্থগিত করেন। ফলে আমরা ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছিলাম। যারা বিজ্ঞাপন দেখে ভর্তি হয়েছিলেন পুরোটা দায় তাদের। তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

novelonlite28
umchltd